ভারত সীমান্তবর্তি মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট থানার পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নে অবস্থিত পাংথুমাই গ্রামটি বাংলাদেশ এর সবচেয়ে সুন্দর গ্রাম হিসেবে ইতিমধ্যেই পর্যটকদের নিকট পরিচিতি লাভ করেছে। এই গ্রামের মুল সৌন্দর্য হচ্ছে মেঘালয় পাহাড় থেকে বেয়ে আসা দারুণ একটি ঝর্ণা। ঝরনাটি ভোগোলিক ভাবে ভারতে অন্তর্ভুক্ত। তাই আমরা বাংলাদেশীরা শুধু দূর থেকেই দেখি এর সৌন্দর্য।সুউচ্চপাহাড় থেকে নেমে আসছে জলরাশি। সফেদ জলধারা লেপ্টে আছে সবুজ পাহাড়ের গায়। দেখলে মনে হবে সবুজের বুকে কেউ হয়তো বিছিয়ে রেখেছে সাদা শাড়ি।এই ঝর্ণাধারাটি স্থানীয়ভাবে মায়ামতি ও ফাটাছড়া ঝর্ণা হিসেবে পরিচিত, কেউ কেউ একে ডাকেন বড়হিল ঝরনা বলে। আর পর্যটকদের কাছে জলপ্রপাতটির পরিচিতি ‘পাংথুমাই ঝর্ণা’ নামে।
পাংথুমাই যেতে হলে র্সবপ্রথম আপনাকে আসতে হবে সিলেট শহরে। সিলেট নগরীর আম্বরখানা থেকে এয়ারপোর্ট রোড ধরে এগিয়ে গেলে প্রথমেই চোখে পরবে লাক্কাতুরা আর মালনিছরা চা বাগান। রাস্তার দুই পাশ জুড়ে শুধু সবুজ চা গাছের সারি, ওপরে নীল আকাশ আর নীচে যেন সবুজ গালিচা বিছানো। বিমানবন্দর পর্যন্ত এ রকমই সুন্দর রাস্তা দেখতে পাবেন। ছোট ছোট মনোলোভা টিলা পার হয়েই দেখা মিলবে পাথর ভাঙা রাজ্যের। এই রাস্তা ধরে সালুটিকর হয়ে দেড় ঘণ্টায় পৌঁছে যাবেন হাদারপার বাজারের কাছে। হাদারপার বাজারে যাবার আগেই মেঘালয়ের সারিবদ্ধ হয়ে দেয়ালের মতো দাঁড়িয়ে সীমাহীন উঁচু পাহাড়ের সারি স্বাগত জানাতে জানাতে ধীরে ধীরে যেনো কাছে চলে আসতে থাকবে আপনার। দূর থেকে দেখতে পাবেন পাহারের বুক চিড়ে বয়ে আসা সাদা রেখার ন্যায় অসংখ্য ঝর্না হাতছানি দিয়ে ডাকতে শুরু করেছে নিজেদের দিকে, আর আফসোস করতে থাকবেন ওই সবুজে মোড়ানো সারিবদ্ধ পাহাড় আর ঝর্নাগুলো কেন আমাদের হলো না! এসব ঝরণার কাছে গিয়ে পানি ছোঁয়ার কোনও সুযোগ নেই, শুধুই দুই চোখ ভরে উপভোগ করা যায়। কারণ এর সবগুলোই ভারতের। হাদারপার খেয়াঘাট থেকে নৌকায় চেঁপে মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে ভারতের সিমান্ত ঘেসা আকাবাকা পিয়াইন নদী ধরে এক থেকে দেড় ঘণ্টায় পৌঁছে যাবেন পাংথুমাই।
এছাড়া সিলেট শহর থেকে মাইক্রোবাস অথবা সিএনজি ভাড়া করে সরাসরি যাওয়া যাবে পাংথুমাই পর্যন্ত। পাংথুমাইয়ে যাওয়া যায় দুটি রাস্তায়। একটি হচ্ছে গোয়াইনঘাটের সালুটিকর হয়ে আর অন্যটি জৈন্তাপুরের সারিঘাট হয়ে। উভয় রাস্তায় দূরত্ব ও ভাড়া সমান।
এই বর্ষায় ঘুরে আসুন পাহাড়ি ঝর্না পাংথুমাই থেকে, উপভোগ করুন প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য বন্ধু অথবা পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে। হাতে সময় থাকলে নৌকা নিয়ে বিকেলটা কাটিয়ে আসতে পারেন বিছানাকান্দি আর লক্ষণছড়া থেকে।পাংথুমাই ঘুরে এসে বুঝতে পারবেন ঝর্নার কলধ্বনি কানে বেজে উঠছে ক্ষণে ক্ষণে। আর আপসোস হবে মনে মনে, প্রকৃতির অপরূপ মায়াবী সবকটি ঝর্না কেন কেবলি সীমানা পেড়িয়ে ওপার থেকে হাতছানি দিয়ে ডাকে।