পাহাড়ের সবুজের সঙ্গে নীল আকাশের গভীর মিতালী। ছন্নছাড়া মেঘগুলো যেন উড়ে এসে বসেছে পাহাড়ের কোলে। সকাল-সন্ধ্যা প্রায় সময়ই পাহাড়ে মেঘের সাথে রোদ বৃষ্টির আর রংয়ের খেলা। সর্বোচ্চ চূড়া থেকে নিচে দূরের গ্রামের দিকে তাকালে মনে হবে পটে আঁকা আধুনিক কোনো ছোট্ট শহর! এখানকার প্রকৃতি ক্ষণে ক্ষণে রং বদলায়। সকাল, দুপুর, বিকেল, সন্ধ্যা ও রাতে বসে রঙের মেলা। সাজেক এমন একটি জায়গা যেখানে ভাগ্য ভাল হলে ২৪ ঘণ্টায় আপনি প্রকৃতির তিনটা রূপই দেখতে পারবেন । কখনো খুবই গরম একটু পরেই হটাৎ বৃষ্টি এবং তার কিছু পরেই হয়তো চারদিকে ঢেকে যাবে কুয়াশার চাদরে । রাঙামাটির অনেকটা অংশই দেখে যায় সাজেক ভ্যালি থেকে। এজন্যে এটিকে রাঙ্গামাটি ছাঁদ বলা হয়। সাজেকের আবহাওয়া ও সৌন্দর্য, রাতের আকাশে চন্দ্র-তারা ও দিনের আলোয় লাল সূর্য মিলেমিশে একাকার। এই কারনেই সাম্প্রতিক সময়ে ভ্রমণ পিপাসু মানুষদের কাছে যে কয়টি ভ্রমণ গন্তব্য সবচেয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে তার মধ্যে অন্যতম হল রাঙামাটি জেলায় অবস্থিত সাজেক ভ্যালী। ভৌগলিক অবস্থান রাঙামাটিতে হলেও সহজ পথ খাগড়াছড়ি থেকে দীঘিনালা হয়ে। প্রায় দুই হাজার ফুট পাহাড়ের ওপর ঝকমকে প্রশস্ত পথ। শহরের আদলে তৈরি ফুটপাত একেবারে পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি। পথের পাশে পাহাড়িদের বাড়িঘর নান্দনিকভাবে সাজানো। মনে হবে, বিদেশি কোনো উপত্যকায় পাহাড়ের বুকে সাজানো-গোছানো আদিবাসী-অধ্যুষিত ছোট্ট কোনো শহরে এসে উপস্থিত হলাম। তবে ঐতিহ্যবাহী চাঁদের গাড়ির ছাদে চড়ে সাজেক যাওয়ার আনন্দ সত্যিই অন্যরকম!